রমজান মাস মুমিনের জীবনের এক বসন্তকাল। এটি গুনাহ মাফ করানোর এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ সময়। বছরের বাকি ১১ মাস আমরা যেভাবেই কাটাই না কেন, রমজান আসে আমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে। তবে উপযুক্ত প্রস্তুতি ছাড়া কোনো মহৎ কাজই সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। রমজান থেকে সর্বোচ্চ ফায়দা হাসিল করতে হলে আমাদের আগে থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে।
আজকের এই প্রবন্ধে আমরা আলোচনা করব কীভাবে আমরা মানসিক, শারীরিক এবং আধ্যাত্মিকভাবে রমজানের জন্য নিজেদের তৈরি করতে পারি।
রমজান কেবল না খেয়ে থাকার নাম নয়, বরং এটি অন্তরের পরিবর্তনের মাস। তাই মানসিক প্রস্তুতি সবচেয়ে বেশি জরুরি:
রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। তাই একটি রুটিন তৈরি করা বুদ্ধিমানের কাজ:
রমজান হলো কুরআনের মাস। লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এই মাসে অন্তত একবার হলেও পুরো কুরআন অর্থসহ খতম করবেন। প্রতিদিন কয়টি পৃষ্ঠা পড়বেন তা আগে থেকেই ঠিক করে নিন।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে পড়ার পাশাপাশি তারাবিহ এবং শেষ রাতে তাহাজ্জুদের অভ্যাস করার চেষ্টা করুন। দুআ কবুলের এই সুযোগগুলো হাতছাড়া করা যাবে না।
সুস্থ না থাকলে ইবাদতে মন বসানো কঠিন। তাই শরীরের যত্ন নেওয়াও ইবাদতের অংশ:
রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে প্রবাহিত বায়ুর চেয়েও বেশি দানশীল হতেন। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ান। আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীদের ইফতার করানোর মাধ্যমে আপনি অনেক সওয়াব অর্জন করতে পারেন।
রমজান আমাদের জীবনে বারবার ফিরে আসে, কিন্তু আমরা জানি না আগামী রমজান আমাদের নসিব হবে কি না। তাই এই রমজানকেই জীবনের শেষ রমজান মনে করে আমল করতে হবে। সঠিক প্রস্তুতিই পারে আমাদের রমজানকে অর্থবহ করে তুলতে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে একটি বরকতময় রমজান নসিব করুন। আমিন।