সন্তান মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে দেওয়া অত্যন্ত মূল্যবান এক নেয়ামত এবং আমানত। কিয়ামতের দিন প্রত্যেক মা-বাবাকে তাদের সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সন্তানকে কেবল পার্থিব শিক্ষায় শিক্ষিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং তাকে একজন আদর্শ মানুষ এবং খাঁটি মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলাই হলো মা-বাবার আসল সফলতা।
একটি সন্তানকে আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয় তার জন্মের পর থেকেই। ইসলাম এখানে কিছু সুন্দর নির্দেশনা দিয়েছে:
সন্তানের কচি মনে শৈশব থেকেই তাওহিদ ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষা গেঁথে দিতে হবে। সাত বছর বয়স থেকেই তাদের নামাজের আদেশ দিতে হবে।
নামাজের পাশাপাশি তাদের ছোট ছোট মাসনুন দোয়া, সত্যবাদিতা, আমানতদারি এবং বড়দের শ্রদ্ধা করার শিক্ষা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, উপদেশের চেয়ে আপনার নিজের আচরণ তাদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলবে।
সন্তানরা মা-বাবাকে অনুসরণ করে। আপনি যদি চান আপনার সন্তান সত্যবাদী হোক, তবে আপনাকেও সবসময় সত্য বলতে হবে। আপনি যদি চান আপনার সন্তান নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করুক, তবে আপনাকেই আগে তিলাওয়াত করে দেখাতে হবে। মা-বাবার চারিত্রিক গুণাবলিই সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় পাঠশালা।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সন্তানদের প্রযুক্তির কুপ্রভাব থেকে রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয়:
অতিরিক্ত কঠোরতা সন্তানকে বিদ্রোহী করে তোলে, আবার অতিরিক্ত আদর তাকে বিপথে নিয়ে যেতে পারে। তাই ভালোবাসা ও শাসনের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। তাদের ছোট ছোট অর্জনে উৎসাহ দিন এবং ভুল করলে ধৈর্য ও মমতার সাথে সংশোধন করে দিন।
একটি আদর্শ সন্তান কেবল ইহকালেই চোখের শীতলতা নয়, বরং মৃত্যুর পর তা মা-বাবার জন্য 'সদকায়ে জারিয়া' হিসেবে গণ্য হয়। আমরা যদি আজ আমাদের সন্তানদের ইসলামের সঠিক আদর্শে বড় করতে পারি, তবেই একটি সুন্দর ও শান্তিময় সমাজ গঠন সম্ভব। আল্লাহ আমাদের সন্তানদের নেককার এবং মা-বাবার অনুগত হিসেবে কবুল করুন। আমিন।