ইসলামে পর্দার বিধান ও আধুনিক সমাজে এর প্রয়োজনীয়তা

বিষয়: আদব ও আকিদা | আপডেট: জানুয়ারি ২০২৫

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে কলুষমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে ইসলাম যেসব বিধান দিয়েছে, তার মধ্যে ‘পর্দা’ অন্যতম। পর্দা কেবল পোশাকের নাম নয়, এটি লজ্জাশীলতা এবং আত্মসম্মান রক্ষার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

"হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে, কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না।"
— (সূরা আল-আহযাব: ৫৯)

১. পর্দার ধর্মীয় গুরুত্ব

পর্দা করা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক মুসলিম নারী ও পুরুষের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজ বা বাধ্যতামূলক বিধান। পর্দার মাধ্যমে একজন মুমিন তার ইমান ও আমলকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।

নারীর পর্দা:

নারীর জন্য পর্দা হলো তার শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার। এটি তাকে পরপুরুষের কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা করে এবং সমাজে তাকে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করে। ইসলাম চায় না নারী পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হোক, বরং ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা।

পুরুষের পর্দা:

পর্দা কেবল নারীদের জন্য নয়, পুরুষদের জন্যও রয়েছে নির্দিষ্ট বিধান। পুরুষদের পর্দার প্রথম ধাপ হলো দৃষ্টির হেফাজত করা। আল্লাহ তাআলা কুরআনে আগে পুরুষদের দৃষ্টি অবনত রাখার আদেশ দিয়েছেন (সূরা নূর: ৩০)।

২. আধুনিক সমাজে পর্দার প্রয়োজনীয়তা

বর্তমান যুগে যখন অশ্লীলতা এবং নৈতিক অবক্ষয় চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন পর্দার গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে:

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "লজ্জাশীলতা ইমানের একটি বিশেষ অঙ্গ।" (সহিহ বুখারি)।

৩. পর্দা নিয়ে ভুল ধারণা

অনেকে মনে করেন পর্দা নারীকে অবরুদ্ধ করে রাখে। আসলে তা নয়। পর্দা নারীকে ঘর থেকে বের হতে বাধা দেয় না, বরং ঘরের বাইরে তার চলাফেরাকে নিরাপদ ও সম্মানজনক করে। ইসলামি পর্দার সীমানা মেনে একজন নারী শিক্ষা, চিকিৎসা এবং সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশ নিতে পারেন।

উপসংহার

পর্দা কোনো পশ্চাৎপদতা নয়, বরং এটি সভ্যতার মাপকাঠি। আমাদের সমাজকে ধর্ষণ, ইভটিজিং এবং নৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে পর্দার বিধান বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিহভাবে পর্দার বিধান মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কারিগরি সহযোগিতায়: Visual Friends (VFSBD)
সৃজনশীল এবং আধুনিক ডিজিটাল সমাধান নিয়ে আমরা আপনার সাথে আছি।