সালাত বা নামাজ ইসলামের দ্বিতীয় রুকন বা স্তম্ভ। একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা সেভাবেই নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।" (সহিহ বুখারি)।
আমাদের নামাজ কবুল হওয়ার জন্য দুটি শর্ত অপরিহার্য: প্রথমত, ইখলাস বা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হওয়া। দ্বিতীয়ত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে হওয়া। আজকের এই প্রবন্ধে আমরা সহিহ হাদিসের আলোকে নামাজের সঠিক নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
নামাজ শুরুর আগে কিছু বিষয় নিশ্চিত করা ফরজ। এগুলো ঠিক না থাকলে নামাজ হবে না:
উভয় হাত কাঁধ বা কান বরাবর উঠিয়ে 'আল্লাহু আকবার' বলে নামাজ শুরু করা। এরপর ডান হাত বাম হাতের ওপর রেখে বুকের ওপর (বা নাভির নিচে, দুই নিয়মই হাদিসে বর্ণিত) বাঁধা। এরপর সানা পড়া।
আউযুবিল্লাহ এবং বিসমিল্লাহ পড়ার পর সূরা ফাতিহা পাঠ করা। সূরা ফাতিহা ছাড়া নামাজ হয় না। এরপর কুরআনের অন্য কোনো অংশ বা সূরা পাঠ করা।
'আল্লাহু আকবার' বলে রুকুতে যাওয়া। রুকুতে পিঠ সোজা রাখা এবং অন্তত তিনবার 'সুবহানা রাব্বিয়াল আযিম' বলা। এরপর 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলে সোজা হয়ে দাঁড়ানো এবং 'রাব্বানা লাকাল হামদ' বলা।
'আল্লাহু আকবার' বলে সেজদায় যাওয়া। সেজদাতে সাতটি অঙ্গ (কপাল ও নাক, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের আঙ্গুল) মাটিতে লেগে থাকতে হবে। অন্তত তিনবার 'সুবহানা রাব্বিয়াল আলা' বলা। দুই সেজদার মাঝখানে স্থিরভাবে বসে দোয়া করা।
দ্বিতীয় বা শেষ রাকাতে বসে তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়া। শেষ রাকাতে তাশাহহুদ পড়ার পর দরুদ শরীফ এবং দোয়া মাসুরা পড়া। এরপর ডানে এবং বামে 'আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ' বলে নামাজ শেষ করা।
অনেক সময় আমাদের অজান্তেই নামাজে কিছু ভুল হয়ে যায় যা নামাজের মান কমিয়ে দেয়:
নামাজ কেবল একটি শারীরিক কসরত নয়, বরং এটি আল্লাহর সাথে বান্দার সরাসরি কথোপকথন। নামাজের মাধ্যমে একজন মুমিন আত্মিক শান্তি লাভ করে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত সহিহ হাদিস অধ্যয়ন করে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর নামাজের সাথে নিজের নামাজ মিলিয়ে নেওয়া। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিহ পদ্ধতিতে নামাজ আদায়ের তাওফিক দান করুন। আমিন।